যশোর ঝুমঝুমপুর ক্রাইম পয়েন্ট : ময়লাখানা এলাকা আবারো উত্তপ্ত

jessore map

যশোর : যশোর-নড়াইল রোড সংলগ্ন সাবেক ক্রাইম পয়েন্ট খ্যাত ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা এলাকা আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চলছে চুরি-ছিনতাই। এলাকার একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং এসব অপরাধের সাথে জড়িত। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ময়লাখানা এলাকায় দুটি ছিনতাই সংঘটিত হয়। আর কিশোর গ্যাংয়ের এসব অবৈধ কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে ঝুমঝুমপুর নিরিবিলিপাড়ায় বসবাসকারী একজন কুখ্যাত ব্লাকার। যাকে এলাকায় হকিস্টিক বাহিনীর প্রধান বললেও অনেকে চেনে।

সম্প্রতি ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা এলাকায় ঘটে যাওয়া দুটি ছিনতাইয়ের একটি ঘটনাও থানা পর্যন্ত গড়াইনি। হকিস্টিক বাহিনীর প্রধান ওই ব্লাকার হিস্যা খেয়ে শালিস-বিচারের মাধ্যমে ঘটনা দুটি ধামাচাপা দেয়। ফলে কিশোর গ্যাং এ যাত্রা থেকে রেহাই পায়। চলতি সপ্তাহে একটি অটো রিক্সা চুরি করে বিক্রি করার সময় বাঘারপাড়া থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আকাশ ও ইসমাইল। এদিকে ওই ব্লাকার এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বর কোনোটাই না, অথচ বিনা কারণে ঝুমঝুমপুর কলোনীপাড়ার রাজমিস্ত্রী অক্সিজেন রহিমকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। একই পাড়ার ইলেকট্রিক মিস্ত্রী তাছির হোসেনকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ঝুমঝুমপুর বাস্তহারাপাড়ার বাসিন্দা মীর হারুন অর রশিদের স্ত্রী বৃদ্ধা জয়নাব আক্তার নাজমাকে পিটিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে এবং ৫০ হাজার টাকার একটি চেক নেয়। পরে নাজমা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের মধ্যস্থতায় ওই ব্লাকার চাঁদার টাকা ও চেক ফেরত দেয়। অবৈধ কাজের অজুহাত দেখিয়ে ঝুমঝুমপুর মাঠপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য শাহজানের বাড়ির ভাড়াটিয়া বাবুল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমকে গভীর রাতে তার ঘরে ঢুকে হেনস্থা করে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করা করা হলে পরে চাঁদপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে তা শালিস বৈঠকে নিষ্পত্তি হয়। চোরাচালানের মালামাল বিডিআর দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার কারণে ঝুমঝুমপুর শশ্মান রোডের মাথায় ওই ব্লাকার বিডিআর সোর্স রিপনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই মামলায় সে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ৫লাখ টাকার বিনিময়ে রিপনের সাথে মামলাটি নিষ্পত্তি করে নেয়। ঝুমঝুমপুর ময়লাখানার সামনে কবীর এন্টার প্রাইজ থেকে চাল বাকি নিয়ে এক বছরেও তার বকেয়া ৩ হাজার ৪শ’ টাকা পরিশোধ করেনি ওই ব্লাকার।

শুধু তাই নয়, তরিকুল এন্টার প্রাইজ থেকে মসজিদের নামে সিমেন্ট বাকি নিয়ে এখনো ১হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা পরিশোধ করেনি সে। এছাড়া ওই ব্লাকারের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংকে মদদ দিয়ে হিস্যা খাওয়াসহ অসংখ্যা অভিযোগ রয়েছে। ৯০ দশকের এই রিক্সাচালক চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা করে আজ গাড়ি-বাড়িসহ অসংখ্য সম্পদের মালিক বনে গেছেন। প্রকৃত অর্থে ওই ব্লাকার ও তার পোষ্য কিশোর গ্যাংয়ের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হলে তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে পড়বে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে সচেতন এলাকাবাসী যশোর পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।