অভয়নগরে ভেসে গেছে শত শত মৎস্য ঘের : দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

যশোর : গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে টানা সাড়ে ৩ ঘন্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে দিয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলাসহ আশপাশের শত শত মৎম্য ঘের ও ফসলী জমি। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা।
তাছাড়া অধিকাংশ মাঠের ধান-সবজিসহ ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যাও কম নয়। তবে কৃষি অফিস ক্ষতিগ্রস্থের প্রাথমিক পরিমাণ জানাতে পারলেও বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য বিভাগ থেকে কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সরাসরি অফিসে গেলে আগামীকাল বুধবার তথ্য দেয়া হবে বলে জানান। কিন্তু বুধবার উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: ফারুক হোসেন সাগর-এর মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি। এলাকাবাসি জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাঘাট স্কুল কলেজসহ অসংখ্য ঘরবাড়ির উঠান ও মাঠ তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ভেসে গেছে শত শত মৎস্য ঘের।
নষ্ট হয়েছে রুপা আমন ও সবজীর বীজতলা। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে রুপা আমন ও সবজীর।
অভয়নগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমনের খুব একটা ক্ষতি হয়নি, কারণ এসব ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেলেও পরে পানি সরে গেছে, তবে সবজীর কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। রুপা আমনের ক্ষতির পরিমান ১’শ ১৫ হেক্টর ও সবজী ৮০ হেক্টর। তবে লোকশানের মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভবদহ প্রভাবিত উপজেলার সুন্দলী ও চলিশিয়া ইউনিয়নের শত শত মৎস ঘের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের বিলঝিকরা, চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটার দক্ষিণ লাট, চাত্রা বিল, কৈয়া বিলসহ এ অঞ্চলের সকল ঘেরের পাড় পানির তলে ডুবে আছে। নেট পাটা দিয়ে কোন রকম মাছ ঠেকানো ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থরা।
ধোপাদী, মশিয়াটি, সুজতপুর, বলারআবাদ, বেতভিটা, সরখোলা, দিঘলিয়াসহ অধিকাংশ গ্রামের একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। কোটা গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী শামীম তরফদার জানান, গত ২ দিনের বৃষ্টিতে আমার ঘের সম্পুর্ন তলিয়ে গেছে। পরবর্তিতে নেট দিয়ে ঘিরেছি ঠিক কিন্তু মাছ আছে বলে মনে হচ্ছেনা। তিনি আরো জানান, সাধারণত বছরের এই সময়ে বিল ভাসেনা সেই হিসাবে কেউ মাছ আগে থেকে ধরেনি সামনে শীতের মৌসুমে ভালো দামে বিক্রির আশায়। অথচ একদিনের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। এদিকে অভয়নগরের নিম্নাঞ্চলের বসত বাড়ির আঙ্গিনার পানি ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে শত শত পরিবার। রান্না ঘরে পানি থই থই করায় খাওয়া দাওয়া নেই অধিকাংশ বাড়িতে।
জীবন রক্ষার তাগিদে কোন মতে শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করছে নারী পুরুষ শিশু। গবাদী পশুর ঠাই হয়েছে সড়কের উঁচু স্থান ব্রিজ কালভার্ট এর উপরে। বেতভিটার শঙ্কর মন্ডল জানান, বাড়ির উঠানে হাটু পানি, ঘরের ভিতর পানি। ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।