‘মান-ইজ্জত সব গেল’

নড়াইল প্রতিনিধি : মান-ইজ্জত সব গেল আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের ওপর এখন নৌকা উঠতে বাকী রয়েছে। হয়ত; সেটাও দেখা যাবে। মুখে আর বলা যাবে না আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক কিম্বা কর্মী। এভাবে দলটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে এভাবে কথাগুলো বললেন ৬০ উর্দ্ধ আফসার আলী। তার সাথে কথা হয় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কামার গ্রামের। তিনি বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ বাদ দিলে কোন দল থাকে না। কিন্তু এবারের ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছায়ে সব থেকে ভুল হয়েছে। রাজাকার পরিবারের সন্তানকে দেওয়া হয়েছে নৌকা প্রতীক। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিকভাবেও ওই পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠা করেছে আওয়ামী লীগ। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনিছুজ্জামান পেয়েছেন ১১৮ ভোট। অথচ এ দলের সব চেয়ে বেশি দুর্দনেও এত কম ভোট পায়নি।
তিনি বলেন, যশোরের ‘শিল্পপতি’ এসএমএ আহাদ (রাজাকার আহাদ) এর ভাইপো আনিছুজ্জামান। নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পির চাচাতো ভাই এবং জাতীয় সংসদের নবম সংসদের সংরক্ষিত কোটার এমপি আনিছুজ্জামানের চাচী। আর এভাবেই ওই পরিবারটিকে দলীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ১১টি ভোট কেন্দ্রে সব থেকে কম ভোট পেয়েছেন আনিছুজ্জামান। অথচ এই এলাকার মানুষের হৃদয়ের প্রতীক নৌকা। সেই নৌকা থেকে মানুষ আজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দলীয় প্রার্থী বাছায়ে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে।
কথা হয়, ডহরপাড়ার মাস্টার পিকুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, সমাজচুত্য মানুষকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কারণে লাহুড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে। এখানে জয় হয়েছে সাধারণ মানুষের।
জানা গেছে, লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম কামরুল ইসলাম কামরান ৮ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৮ হাজার ১৭৫ ভোট। দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়াই করলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেনি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লাহুড়িয়া ইউনিয়নের দীননাথপাড়া ভোট কেন্দ্রে ৯ ভোট, গোবিন্দপাড়া কেন্দ্রে ৪ ভোট, হিন্দুপাড়া কেন্দ্রে ৭ ভোট, ৮৫পাড়া কেন্দ্রে ৩৭ ভোট, ডহরপাড়া কেন্দ্রে ১৩ ভোট, ১১র নলী ৯ ভোট, লাহুড়িয়া হাইস্কুল পুরুষ সেন্টারে ৯ ভোট, লাহুড়িয়া হাইস্কুল মহিলা সেন্টারে ৮ ভোট, কালাণপুর ভোট কেন্দ্রে ১০ ভোট, কামারগ্রাম সেন্টারে ৪ ভোট, সরুসনা ভোট কেন্দ্রে ৮ ভোট পেয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনিছুজ্জামান।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য সৈয়দ ইলিয়াস আহমেদ লুলু এবং সৈয়দ লিয়াকত হোসেন টুকু বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেওয়া ভুল হয়েছে। এখানে নিজ যোগ্যতায় যে কেউ নির্বাচন করে আসলে তাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়াটাই ছিল মূল কাজ। কিন্তু সেটা না করে এমনকি স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়াও ভুল হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা দলীয় হাইকমান্ড সম্পর্কে কোন অভিযোগ করতে পারি না।
লাহুড়িয়া ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৮৯ জন। চেয়ারম্যান পদে ভোট পড়েছে ১৬ হাজার ৭৩৬টি। এরমধ্যে বৈধ ভোট ১৬ হাজার ৫৫৫টি। বাতিল হয়েছে ১৮১টি।