পাঁচ গ্রামের পঞ্চাশ বছরের দুঃখ ‘ভোগের বিল’

যশোর: যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ‘ভোগের বিল’। পাঁচ গ্রামের প্রায় দেড় হাজার কৃষকের ৫০ বছরের দুঃখের নাম। জলাবদ্ধতার কারণে বছরের সিংহভাগ সময় চাষাবাদ করা যায়না এ বিলের এক হাজার বিঘা জমিতে। ফলে দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ওই বিলে জমি থাকা পাঁচ গ্রামের দেড় হাজার কৃষক।
জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েক দফা বলেও আজ অবধি কোন সমাধান পাননি ভুক্তভোগিরা। উপায় না পেয়ে গেল মঙ্গলবার তাই স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কাজ শুরু করেন তারা।
খাল খননের আগে এলাকায় মাইকিং করে কাজে অংশ নেওয়ার আহবান জানান গ্রামবাসী। এতে অংশ নেন শতাধিক কৃষক। দিনব্যাপী চলে তাদের এই কর্মযজ্ঞ। কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এই আশায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রায়পুর ইউনিয়নের শেখেরবাতান, সদুল্যাপুর, শালবরাট, আজমেহেরপুর ও নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ধুপখালী গ্রাম নিয়ে ভোগের বিলের অবস্থান। বিলের পানি নিষ্কাসনের জন্য রয়েছে মাত্র একটি নালা (খাল)। খালটি শেখেরবাতান ও রামকান্তপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে পাইকপাড়ার খালে গিয়ে মিশেছে।
এদিন সেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন শেখেরবাতান গ্রামের কৃষক কওছার মোল্যা। দীর্ঘদিনের দুর্দাশার চিত্র থুলে ধরে তিনি জানান, ভোগের বিলে ১০ বিঘা জমি রয়েছে তার। পানি সরার ব্যবস্থা না থাকায় চাষের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না তিনি। গত বছর বর্ষা কম থাকায় কিছু জমিতে চাষাবাদ করতে পারলেও এবার চাষ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘বাপ দাদার আমল থেকে ক্ষতির উপর আছে চাষীরা। বর্ষা কম হলে চাষ মোটামুটি চাষাবাদ হয়। আর বেশি হলে হাজার হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে যায়।’
ধুপখালি গ্রামের কৃষক শফিয়ার রহমান জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করার কারণে উপরের কিছু জমিতে চাষাবাদ করা যাবে।তবে নিচু জমিতে পানি থাকায় চাষ করা যাচ্ছে না। তার তিন বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন বলেন,‘ভোগের বিলের পাশে যে নালা (খাল) রয়েছে সেটি ব্যক্তি মালিকানার। যে কারণে সরকারিভাবে খনন কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে আমি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে বিষয়টি সুরহা করা হবে। একই সাথে দ্রুতই পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করা হবে।